পদ্মায় বাসডুবি: ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন
- প্রকাশিত: ১০:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / ৭৯ বার পঠিত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা-এর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদী-তে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে বাসযাত্রী ও কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীর স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। তবুও রাতভর অভিযান চালিয়ে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন;
রেহেনা আক্তার ও তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (রাজবাড়ী), মর্জিনা খাতুন (কুষ্টিয়া), রাজীব বিশ্বাস (কুষ্টিয়া), জহুরা অন্তি, কাজী সাইফ (রাজবাড়ী), মর্জিনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি, শিশু ইস্রাফিল, ফাইজ শাহানূর, তাজবিদ, গাড়িচালক আরমান খান, নাজমিরা ওরফে জেসমিন, লিমা আক্তার, জোৎস্না, মুক্তা খানম (গোপালগঞ্জ), নাছিমা (দিনাজপুর), আয়েশা আক্তার (ঢাকা), সোহা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা, শিশু আরমান (ঝিনাইদহ), আব্দুর রহমান, সাবিত হাসান (৮) এবং উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিনিধি এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনওকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









