জাতিসংঘের জুডিশিয়ারি সম্মেলন
বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে : বিচারপতি সোহেল
- প্রকাশিত: ০৯:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬৯ বার পঠিত
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সততা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে-এ কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল বলেছেন, বিচার বিভাগের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাওয়াও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফিলিপাইনের মানিলায় জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিচারিক সততা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিচারপতি সোহেল বলেন, বিচারিক সততা বজায় রাখতে বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে পৃথক করতে হবে। আপসহীনভাবে বিচারকদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতাও তিনি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা গঠনে সিভিল সোসাইটি ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
মামলার জট কমানোর বিষয়ে বিচারপতি সোহেল বলেন, বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিচার বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ অপসারণ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও বিচারপতি নিয়োগ কাউন্সিল গঠনসহ একাধিক সংস্কার ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাও এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সংশোধনীটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও ছুটিসহ সকল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবারও সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে। গত ২০ ও ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রধান বিচারপতি ও সিনিয়র বিচারপতিরা অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল।
















