ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল–সংক্রান্ত মামলায় আপিলে পক্ষভুক্ত হলেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১০:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬৭ বার পঠিত

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকে ঘিরে আলোচিত মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিলে আনুষ্ঠানিকভাবে পক্ষভুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আবেদন মঞ্জুর করে। বিএনপির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

 পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আইনি লড়াই কোথায় দাঁড়িয়ে?

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়— যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল— তার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করার অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ওই আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। রিটকারী প্রতিষ্ঠান সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন।

হাইকোর্ট কী রায় দিয়েছিল?

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট জানায়—

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের ইচ্ছায় সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল
  • এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে
  • দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন দেখা যায়নি
  • এর ফলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ঘটে

হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ— যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট— বাতিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বাতিল হয় ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ।
তবে সংশোধনীর অন্যান্য অংশ বহাল থাকে, এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যৎ সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে পরিবর্তন আনতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গণভোটের বিধান বাতিল করাকে অসাংবিধানিক বলা হয়। ফলে পুনর্বহাল হয় দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

বিএনপির হয়ে উপস্থিত ছিলেন— জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতে ইসলামের পক্ষে— অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরামসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকেও আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।

  • ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।
  • এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি, নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০,সহ নানা পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
  • ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করে।
  • দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৭ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল–সংক্রান্ত মামলায় আপিলে পক্ষভুক্ত হলেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১০:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকে ঘিরে আলোচিত মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিলে আনুষ্ঠানিকভাবে পক্ষভুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আবেদন মঞ্জুর করে। বিএনপির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

 পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আইনি লড়াই কোথায় দাঁড়িয়ে?

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়— যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল— তার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করার অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ওই আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। রিটকারী প্রতিষ্ঠান সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন।

হাইকোর্ট কী রায় দিয়েছিল?

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট জানায়—

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের ইচ্ছায় সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল
  • এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে
  • দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন দেখা যায়নি
  • এর ফলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ঘটে

হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ— যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট— বাতিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বাতিল হয় ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ।
তবে সংশোধনীর অন্যান্য অংশ বহাল থাকে, এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যৎ সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে পরিবর্তন আনতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গণভোটের বিধান বাতিল করাকে অসাংবিধানিক বলা হয়। ফলে পুনর্বহাল হয় দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

বিএনপির হয়ে উপস্থিত ছিলেন— জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতে ইসলামের পক্ষে— অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরামসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকেও আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।

  • ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।
  • এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি, নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০,সহ নানা পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
  • ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করে।
  • দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৭ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা হয়।