ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরোয়ার বিতর্কে তোলপাড় পিরোজপুর বিএনপি

বার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ১৫৪ বার পঠিত

পিরোজপুরে বিএনপির রাজনীতি আজ চরম বিতর্কে। কেন্দ্রে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সরোয়ার হোসেন—যিনি তৃণমূলে পরিচিত ‘আওয়ামীপন্থী বিএনপি নেতা’ হিসেবে। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, আচরণ, অর্থনৈতিক উত্থান ও প্রভাব বিস্তারে ক্ষুব্ধ দলের বহু ত্যাগী নেতাকর্মী।

সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন সাবেক টোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং একজন পরিচিত আওয়ামী লীগপন্থী। আওয়ামী শাসনামলে তাদের পরিবারের প্রভাব ও সুবিধাভোগ কারও অজানা নয়। রাজনৈতিক সমীকরণে এক ভাই আরেক ভাইয়ের ছায়া হয়ে থাকলেও, এই ঘনিষ্ঠতা এখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের একাধিক নেতার দাবি, সরোয়ার হোসেন শুধু আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠই নন, বরং পলাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম বাইজিদ হোসেনের ঠিকাদারি ও আর্থিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। বাইজিদের লোকজন দিয়ে সরোয়ার নিজেই নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখেন বলে অভিযোগ।

পূর্বে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন সরোয়ার। তখন থেকেই তিনি পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে এক্স-নোয়া মডেলের স্কোয়ার গাড়িতে চলাফেরা করেন তিনি—যা স্থানীয়ভাবে এক প্রভাবশালী আওয়ামী এমপি’র উপহার বলেও প্রচার রয়েছে। বিনিময়ে তিনি সরকারি কাজ ও সুবিধায় আওয়ামী কর্মীদের সহযোগিতা করেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সরোয়ার কচা নদীসংলগ্ন হুলারহাট এলাকায় চোরাচালান সিন্ডিকেট চালান। এক সময় রেন্ট-এ-কার মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন—সেই সরোয়ারের রাতারাতি আর্থিক উত্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে সাধারণের মাঝেও।

গত ৬ জুলাই পিরোজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিল হবার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অনিয়মের অভিযোগে তা স্থগিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরোয়ার কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নিয়ে কাউন্সিলে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টিতে তার ঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা বিজয়ী হন। বিশেষ করে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ত্যাগী নেতা রুহুল আমিনকে ফরম কিনতে বাধা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার ও মামলা মোকদ্দমা সহ্য করা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালাল ফকিরকে শুধুমাত্র এক পুরনো ছবির অজুহাতে মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—“ছবির কারণে ত্যাগীদের বাদ, আর আওয়ামী নেতার গাড়িতে চড়ে বেড়ানো সরোয়ার সাধারণ সম্পাদকের পদে—এই দ্বৈতনীতি কতদিন চলবে?”

বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, সরোয়ারের মতো বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী নেতাকে প্রশ্রয় দিলে সংগঠনের ভিত্তিই ধসে পড়বে। তাঁরা দলীয় তদন্ত ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। সরোয়ার হোসেন আদর্শের রাজনীতি করছেন, না কি কৌশলী সুবিধাবাদী চরিত্র—তা এখন দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পিরোজপুর পৌর বিএনপি বড় ধরনের বিভাজনের মুখে পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

সরোয়ার বিতর্কে তোলপাড় পিরোজপুর বিএনপি

প্রকাশিত: ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

পিরোজপুরে বিএনপির রাজনীতি আজ চরম বিতর্কে। কেন্দ্রে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সরোয়ার হোসেন—যিনি তৃণমূলে পরিচিত ‘আওয়ামীপন্থী বিএনপি নেতা’ হিসেবে। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, আচরণ, অর্থনৈতিক উত্থান ও প্রভাব বিস্তারে ক্ষুব্ধ দলের বহু ত্যাগী নেতাকর্মী।

সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন সাবেক টোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং একজন পরিচিত আওয়ামী লীগপন্থী। আওয়ামী শাসনামলে তাদের পরিবারের প্রভাব ও সুবিধাভোগ কারও অজানা নয়। রাজনৈতিক সমীকরণে এক ভাই আরেক ভাইয়ের ছায়া হয়ে থাকলেও, এই ঘনিষ্ঠতা এখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের একাধিক নেতার দাবি, সরোয়ার হোসেন শুধু আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠই নন, বরং পলাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম বাইজিদ হোসেনের ঠিকাদারি ও আর্থিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। বাইজিদের লোকজন দিয়ে সরোয়ার নিজেই নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখেন বলে অভিযোগ।

পূর্বে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন সরোয়ার। তখন থেকেই তিনি পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে এক্স-নোয়া মডেলের স্কোয়ার গাড়িতে চলাফেরা করেন তিনি—যা স্থানীয়ভাবে এক প্রভাবশালী আওয়ামী এমপি’র উপহার বলেও প্রচার রয়েছে। বিনিময়ে তিনি সরকারি কাজ ও সুবিধায় আওয়ামী কর্মীদের সহযোগিতা করেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সরোয়ার কচা নদীসংলগ্ন হুলারহাট এলাকায় চোরাচালান সিন্ডিকেট চালান। এক সময় রেন্ট-এ-কার মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন—সেই সরোয়ারের রাতারাতি আর্থিক উত্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে সাধারণের মাঝেও।

গত ৬ জুলাই পিরোজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিল হবার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অনিয়মের অভিযোগে তা স্থগিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরোয়ার কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নিয়ে কাউন্সিলে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টিতে তার ঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা বিজয়ী হন। বিশেষ করে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ত্যাগী নেতা রুহুল আমিনকে ফরম কিনতে বাধা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার ও মামলা মোকদ্দমা সহ্য করা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালাল ফকিরকে শুধুমাত্র এক পুরনো ছবির অজুহাতে মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—“ছবির কারণে ত্যাগীদের বাদ, আর আওয়ামী নেতার গাড়িতে চড়ে বেড়ানো সরোয়ার সাধারণ সম্পাদকের পদে—এই দ্বৈতনীতি কতদিন চলবে?”

বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, সরোয়ারের মতো বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী নেতাকে প্রশ্রয় দিলে সংগঠনের ভিত্তিই ধসে পড়বে। তাঁরা দলীয় তদন্ত ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। সরোয়ার হোসেন আদর্শের রাজনীতি করছেন, না কি কৌশলী সুবিধাবাদী চরিত্র—তা এখন দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পিরোজপুর পৌর বিএনপি বড় ধরনের বিভাজনের মুখে পড়তে পারে।