ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্রীলতাহানি

দিনমজুর থেকে ভয়ংকর ডাকাত সর্দার আলমগীর

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: ০৮:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • / ৬৬ বার পঠিত

অভাবের তাড়নায়  দিনমজুরের কাজ করতেন আলমগীর শেখ। পরে ছোট ছোট চুরি আর ছিনতাই করতে করতে হয়ে উঠেন ভয়ংকর এক ডাকাত দলের সর্দার।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী লাউতারা এলাকার বাসিন্দা কৃষক খোরশেদ আলম শেখের ছেলে মোঃ আলমগীর শেখ ৫ বছর আগেও আমতলী বাজারে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। নদীগর্ভে ভিটে মাটি বিলীন হওয়ার পর আমতলী আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পায় আলমগীরের পিতা খোরশেদ শেখ। সেই ঘরেই তিন ছেলে ও এক ছেলের বউসহ বসবাস করতেন । পরে বড় ছেলে আলমগীর তার বউ আর এক ছেলেকে নিয়ে পাশের ‌গ্রাম আমতলী এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন। প্রথম দিকে এলাকার ছিচকে চোরদের সাথে  ছোট ছোট চুরি ও ছিনতাই এর সাথে জড়িয়ে পরেন। পরে আস্তে আস্তে শুরু করেন ডাকাতি। চার বছর আগে এলাকায় একটি অটোরিকশা ডাকাতি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক হলে এলাকাবাসীর মারধর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই তিনি তার নিজ গ্রামে খুব কম আসতেন । আস্তে আস্তে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের প্রধান হয়ে উঠেন আলমগীর শেখ। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করতেন।

সম্প্রতি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় উঠে আসে খোরশেদ আলম শেখের দুই ছেলে মোঃ আলমগীর শেখ ও মোঃ রাজিব হোসেন শেখের নাম। ডাকাত সর্দার মোঃ  আলমগীর শেখের  পরিকল্পনায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইউনিক রোড রয়েলসের (আমরি ট্রাভেলস) একটি বাসে মধ্যরাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটায় তারা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বাসটিকে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে যাত্রীদের টাকাপয়সা, মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে নারীর শ্লীলতাহানি করার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে ডাকাতদল নেমে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী ওমর আলী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করার পর গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নেত্রকোনা থেকে থেকে ডাকাত সর্দার মোঃ আলমগীর শেখ ও তার ছোট ভাই মোঃ রাজিব হোসেন শেখকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিয়নপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মোল্লা বলেন, আমাদের এলাকার ছেলে আলমগীর । আগে বাজারে দিনমজুরের কাজ করতেন। তারা তিন ভাই , ছোট ভাই রাজিব হোসেন শেখ পড়াশোনা করতেন। নদীগর্ভে তাদের ভিটেমাটি বিলিন হওয়ার পর আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে সবাই থাকতেন। প্রথমে এলাকার ছোট ছোট চুরি ও ছিনতাই করতেন । পরে আস্তে আস্তে অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত পরেন। শুনেছি অনেক বড় একটা ডাকাত দলের সর্দার আলমগীর। এর আগেও অনেকদিন জেলে ছিলেন। এখন তেমন এলাকায় দেখি না। গত বছর এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় দেখেছিলাম। এরা এলাকার ক্যান্সার । আমাদের এলাকার সুনাম নষ্ট করছে। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

আমতলী এলাকায় ফজলে রাব্বি  বলেন, আলমগীর ও তার ভাই রাজিব এই সমাজের শত্রু এ দেশের শত্রু। তাকে আমরা এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। সে অনেক বড় ডাকাত দলের সর্দার। আমরা তার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই ।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তৌফিক আজম  বলেন, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী লাউতারা গ্রামের খোরশেদ শেখের ছেলে আলমগীর শেখের নামে দৌলতপুর থানায় ২০১৬ সালে একটি মাদক মামলা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি আলমগীর। এছাড়াও শিবালয় থানায় একটি মাদক মামলা, টাংগাইল থানায় একটি ডাকাতি মামলা ও গাজিপুরেও একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্রীলতাহানি

দিনমজুর থেকে ভয়ংকর ডাকাত সর্দার আলমগীর

প্রকাশিত: ০৮:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

অভাবের তাড়নায়  দিনমজুরের কাজ করতেন আলমগীর শেখ। পরে ছোট ছোট চুরি আর ছিনতাই করতে করতে হয়ে উঠেন ভয়ংকর এক ডাকাত দলের সর্দার।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী লাউতারা এলাকার বাসিন্দা কৃষক খোরশেদ আলম শেখের ছেলে মোঃ আলমগীর শেখ ৫ বছর আগেও আমতলী বাজারে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। নদীগর্ভে ভিটে মাটি বিলীন হওয়ার পর আমতলী আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পায় আলমগীরের পিতা খোরশেদ শেখ। সেই ঘরেই তিন ছেলে ও এক ছেলের বউসহ বসবাস করতেন । পরে বড় ছেলে আলমগীর তার বউ আর এক ছেলেকে নিয়ে পাশের ‌গ্রাম আমতলী এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন। প্রথম দিকে এলাকার ছিচকে চোরদের সাথে  ছোট ছোট চুরি ও ছিনতাই এর সাথে জড়িয়ে পরেন। পরে আস্তে আস্তে শুরু করেন ডাকাতি। চার বছর আগে এলাকায় একটি অটোরিকশা ডাকাতি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক হলে এলাকাবাসীর মারধর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই তিনি তার নিজ গ্রামে খুব কম আসতেন । আস্তে আস্তে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের প্রধান হয়ে উঠেন আলমগীর শেখ। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করতেন।

সম্প্রতি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় উঠে আসে খোরশেদ আলম শেখের দুই ছেলে মোঃ আলমগীর শেখ ও মোঃ রাজিব হোসেন শেখের নাম। ডাকাত সর্দার মোঃ  আলমগীর শেখের  পরিকল্পনায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইউনিক রোড রয়েলসের (আমরি ট্রাভেলস) একটি বাসে মধ্যরাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটায় তারা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বাসটিকে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে যাত্রীদের টাকাপয়সা, মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে নারীর শ্লীলতাহানি করার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে ডাকাতদল নেমে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী ওমর আলী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করার পর গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নেত্রকোনা থেকে থেকে ডাকাত সর্দার মোঃ আলমগীর শেখ ও তার ছোট ভাই মোঃ রাজিব হোসেন শেখকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিয়নপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মোল্লা বলেন, আমাদের এলাকার ছেলে আলমগীর । আগে বাজারে দিনমজুরের কাজ করতেন। তারা তিন ভাই , ছোট ভাই রাজিব হোসেন শেখ পড়াশোনা করতেন। নদীগর্ভে তাদের ভিটেমাটি বিলিন হওয়ার পর আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে সবাই থাকতেন। প্রথমে এলাকার ছোট ছোট চুরি ও ছিনতাই করতেন । পরে আস্তে আস্তে অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত পরেন। শুনেছি অনেক বড় একটা ডাকাত দলের সর্দার আলমগীর। এর আগেও অনেকদিন জেলে ছিলেন। এখন তেমন এলাকায় দেখি না। গত বছর এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় দেখেছিলাম। এরা এলাকার ক্যান্সার । আমাদের এলাকার সুনাম নষ্ট করছে। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

আমতলী এলাকায় ফজলে রাব্বি  বলেন, আলমগীর ও তার ভাই রাজিব এই সমাজের শত্রু এ দেশের শত্রু। তাকে আমরা এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। সে অনেক বড় ডাকাত দলের সর্দার। আমরা তার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই ।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তৌফিক আজম  বলেন, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী লাউতারা গ্রামের খোরশেদ শেখের ছেলে আলমগীর শেখের নামে দৌলতপুর থানায় ২০১৬ সালে একটি মাদক মামলা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি আলমগীর। এছাড়াও শিবালয় থানায় একটি মাদক মামলা, টাংগাইল থানায় একটি ডাকাতি মামলা ও গাজিপুরেও একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।