ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্টের গাড়িবহরে হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
- প্রকাশিত: ১২:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
- / ৩৪ বার পঠিত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার গাড়িবহরে বিক্ষোভকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কুয়েঙ্কা শহরের কাছে প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়ে ও ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া অক্ষত থাকলেও, তার গাড়িতে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইনেস মানসানো। তিনি বলেন, “এটি ছিল প্রেসিডেন্টের ওপর একটি সরাসরি হত্যাচেষ্টা। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।”
অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারী, ৫ জন গ্রেপ্তার
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেয় কমপক্ষে ৫০০ বিক্ষোভকারী।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে গাড়িতে আসলেই গুলি ছোড়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া: “সহিংসতা সহ্য করা হবে না”
ঘটনার কিছুক্ষণ পর প্রেসিডেন্ট নোবোয়া কুয়েঙ্কায় শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন,”যারা হামলা চালিয়ে আমার এখানে আসা ঠেকাতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। নতুন ইকুয়েডরে সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।” মন্ত্রী ইনেস মানসানোও বলেন, “রাষ্ট্রপতির গাড়িতে হামলা, পাথর নিক্ষেপ বা সরকারি সম্পদ ধ্বংস—এসবই অপরাধ। সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
পুলিশের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ
অন্যদিকে, দেশের জাতীয় আদিবাসী সংগঠন কনাই (CONAIE) অভিযোগ করেছে,প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
সংগঠনের দাবি, দমন-পীড়নে বয়সভিত্তিক নারীসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন, এবং অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
🔍 বিক্ষোভের পটভূমি: জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার
ইকুয়েডরে চলমান এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার ঘোষিত জ্বালানি ভর্তুকি বাতিলের সিদ্ধান্ত।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি, তিনি এক নির্বাহী আদেশে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানিতে দেওয়া সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
সরকার বলছে,
এই ভর্তুকি বাতিলের ফলে বছরে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে, যা ক্ষুদ্র কৃষক ও পরিবহন খাতে পুনর্বণ্টন করা হবে।
তবে কৃষক ও আদিবাসী সংগঠনগুলো বলছে, এতে করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে, যার জেরেই ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ ও আন্দোলন চলছে।















