`শেখ হাসিনার নির্দেশেই কয়েকটি বাসে আগুন’: রিজভী
- প্রকাশিত: ১০:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ৮১ বার পঠিত
বাংলাদেশ জাতীয়াতবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ১৪০০ শিশু, কিশোর, তরুণ হত্যা করে এখন ভারত বসে অডিও বার্তা পাঠিয়ে নাশকতা করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নির্দেশেই কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন পুড়ে মারাও গেছেন। কোনো একটা চোরা রাস্তা দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে আসার স্বপ্নে বিভোর রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে প্রচুর টাকা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের টাকা তাদের হাতে আছে। সব টাকা আটকানো যায়নি। সেই টাকা খরচ করে তারা নাশকতা করার চেষ্টা করছেন।
রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনা এখন ভারত বসে অডিও বার্তা পাঠিয়ে নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ দেশে ফেরার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এসব কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে এখনও প্রচুর অর্থ রয়েছে। ব্যাংক ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ থাকে না। শেখ হাসিনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোথাও বসতে পারেনি— না ক্লাসরুমে, না চায়ের দোকানে।
জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের আত্ম-পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বর্ণনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাহাত্তরের পর থেকেই আত্মপরিচয়ের সংকট তৈরি করছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সবাইকে বাঙালি হয়ে যেতে বলেছিলেন। তাহলে প্রশ্ন আসে আমরা কোন দেশের বাঙালি, আমাদের চাকমা, মারমা কীভাবে বাঙালি হবে। এর পরিবর্তে জিয়াউর রহমান আনলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এর মধ্যে আমার পাহাড়ী, সমতল, নদী সব চলে আসে। আমাদের এই আত্ম-পরিচয়ের সংকট নিরসন করলেন জিয়াউর রহমান। এটাকে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুছে দিতে চেয়েছিল, কিন্ত তিনি সেটা পারেননি।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিলো। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে এসে সবাই তার রাজনীতি করতে পারবেন। তার মত প্রকাশ করতে পারবেন এই স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এটাই ৭ নভেম্বরের কৃতিত্ব ও মহত্ব, আপনি এটাকে কখনও অস্বীকার করতে পারবেন না।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বর্ণনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বরের পরেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষা, কৃষি, পররাষ্ট্রসহ সকল খাতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তকে কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। জিয়াউর রহমানের সময়ের আগে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের অক্ষর জ্ঞান ছিলো। যেটা তিনি স্বল্প সময়ে সেটিকে ৪০ শতাংশে নিয়ে গিয়েছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বলেন, ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে হবিবুর রহমান হলের একটি কক্ষে ছাত্রদল গঠন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এরশাদের আমলে আমরা মাত্র ১২/১৩ জন মিলে ঝটিকা মিছিল দিয়ে সামরিক আইন ভেঙেছি। এর পরেই ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়। ৮০ সালের রাকসু নির্বাচনে আমরা একটি সিটও পাইনি। তবে ৯০ এ এসে শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে সবগুলো পদে নির্বাচিত হয়েছি।
এ সময় প্রধান বক্তার বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, বাংলাদেশকে যারা তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো তাদের সবার পরাজয় হয়েছে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। আমাদেরকে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেমন জানতে হবে, তেমনি আমাদের সার্বভৌমত্ব ফেরত পাওয়ার দিন ৭ নভেম্বর সম্পর্কে জানতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ইউট্যাবরে রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসনে, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামরে সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমরিুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডাক্তার আওয়াল প্রমুখ।










