ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থেকে এখন নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ আক্তার হোসেন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: ১২:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৮৩ বার পঠিত

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও তার ঘনিষ্ঠরা এখনো সরকারি বিভিন্ন পদে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই এক নাম মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার (ইনচার্জ) মোঃ আক্তার হোসেন।

২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোঃ আক্তার হোসেনকে নার্সিং সুপারভাইজার পদ থেকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ করা হয়। একই আদেশে রিজিয়া বেগমকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ থেকে নার্সিং সুপারভাইজার পদে প্রদান করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশন (বিএনএ) মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি ছিলেন আক্তার হোসেন। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আক্তার হোসেন তার আস্থাভাজনদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ বানাতেন, ইন্টার্নি না করিয়েই সার্টিফিকেট দিতেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন,“আমি বিএনএ’র বর্তমান সভাপতি। আমার সাথে সমন্বয় করেই প্রতিটি হাসপাতালে নার্সদের পদ-পদবি দেওয়ার কথা। কিন্তু মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তা মানা হয়নি। আওয়ামী লীগের দোসররা কোনোভাবেই হাসপাতালের দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবে না।”

এ বিষয়ে আক্তার হোসেন বলেন, “আমার রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে যে সরকার থাকে, তার হয়ে কাজ করতে হয়। তবে ২০২২ সালে কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনএ সভাপতি থাকার বিষয়টি সত্য।”

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাকে ভালো মনে করেছে তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতালের চাকরিজীবীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নন।”

 

সংবাদটি শেয়ার করুন :

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থেকে এখন নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ আক্তার হোসেন

প্রকাশিত: ১২:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও তার ঘনিষ্ঠরা এখনো সরকারি বিভিন্ন পদে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই এক নাম মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার (ইনচার্জ) মোঃ আক্তার হোসেন।

২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোঃ আক্তার হোসেনকে নার্সিং সুপারভাইজার পদ থেকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ করা হয়। একই আদেশে রিজিয়া বেগমকে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ থেকে নার্সিং সুপারভাইজার পদে প্রদান করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশন (বিএনএ) মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি ছিলেন আক্তার হোসেন। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আক্তার হোসেন তার আস্থাভাজনদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ বানাতেন, ইন্টার্নি না করিয়েই সার্টিফিকেট দিতেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ নার্সিং এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন,“আমি বিএনএ’র বর্তমান সভাপতি। আমার সাথে সমন্বয় করেই প্রতিটি হাসপাতালে নার্সদের পদ-পদবি দেওয়ার কথা। কিন্তু মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তা মানা হয়নি। আওয়ামী লীগের দোসররা কোনোভাবেই হাসপাতালের দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবে না।”

এ বিষয়ে আক্তার হোসেন বলেন, “আমার রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে যে সরকার থাকে, তার হয়ে কাজ করতে হয়। তবে ২০২২ সালে কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনএ সভাপতি থাকার বিষয়টি সত্য।”

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাকে ভালো মনে করেছে তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতালের চাকরিজীবীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নন।”