ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের হাতের আচার, সন্তানের স্বপ্ন—‘আচারে পাকা’র যাত্রা শুরু

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: ০৯:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • / ১৫২ বার পঠিত

মায়ের হাতের তৈরি আচার আর ছেলের স্বপ্ন মিলেই যাত্রা শুরু করল নতুন উদ্যোক্তার উদ্যোগ—‘আচারে পাকা’। মানিকগঞ্জ শহরের বান্দুটিয়া এলাকার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তারের রান্নাঘর থেকে উঠে আসা সেই ঘ্রাণমাখা আচার আজ ব্যবসায় রূপ নিয়েছে তার সপ্তম শ্রেণির ছেলে মোবাশ্বির আমিনের হাত ধরে।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোবাশ্বির ছোটবেলা থেকেই মায়ের রান্নায় মুগ্ধ। হঠাৎ একদিন বলেই ফেলে, “মা, তোমার আচার যদি বিক্রি করতাম, কেমন হতো?” প্রথমে পরিবারে কৌতূহল থাকলেও পরে সকলে পাশে দাঁড়ায় মোবাশ্বিরের এই স্বপ্নে।

এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তার হাত বাড়ায় উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই (সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ)। তারা মোবাশ্বিরকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয় এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্সসহ ব্যবসার আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান করে। এরই মাঝে গড়ে ওঠে ‘সেই ফুড’ নামের প্রতিষ্ঠান, যার ব্যান্ড নাম—‘আচারে পাকা’।

 

শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় মোবাশ্বিরের বাড়িতে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ‘আচারে পাকা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এসডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক। তিনি বলেন,
“মোবাশ্বির প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখতে বয়স লাগে না। তার মতো সাহসী শিশুরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের বার্তা বয়ে আনবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—এসডিআই ধামরাই জোনের জোনাল ম্যানেজার অভিজিৎ কুমার দেবনাথ, মানিকগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেন, সদর শাখার ব্যবস্থাপক নয়ন ঘোষ এবং বান্দুটিয়া সেতুবন্ধন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

উদ্বোধনী দিনে অতিথিরা আচার কিনে নেন ও অর্ডার দেন। এসডিআই প্রধান নিজেও ৫০ পিস গরুর মাংস ও ৫০ পিস রসুনের আচারের অর্ডার করেন।

বর্তমানে ‘আচারে পাকা’র দুটি পণ্য বাজারে রয়েছে—গরুর মাংসের আচার ও রসুনের আচার। উদ্যোক্তাদের দাবি, রসুন উচ্চ রক্তচাপ এবং গরুর মাংস নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য উপকারী।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে মোবাশ্বির বলেন,
“মায়ের আচার রান্নার সময় যে ঘ্রাণে বাড়ি ভরে যেত, সেটাকেই আমি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”

মা সুমাইয়া আক্তার বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে বলত আচার বিক্রি করতে। আজ ওর হাত ধরেই সেটা বাস্তব হয়েছে। আমি অর্গানিকভাবে আচার তৈরি করি, আর ও দেখাশোনা করে ব্যবসার দিক।”

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আচারে পাকা’র প্রচারণা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সুপারশপগুলোতে সরবরাহের প্রস্তুতিও চলছে।

শুধু একটি পণ্যের গল্প নয়—‘আচারে পাকা’ এখন এক মা-ছেলের স্বপ্ন, সাহস আর পরিবারিক ঐক্যের প্রতীক।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন :

মায়ের হাতের আচার, সন্তানের স্বপ্ন—‘আচারে পাকা’র যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ০৯:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

মায়ের হাতের তৈরি আচার আর ছেলের স্বপ্ন মিলেই যাত্রা শুরু করল নতুন উদ্যোক্তার উদ্যোগ—‘আচারে পাকা’। মানিকগঞ্জ শহরের বান্দুটিয়া এলাকার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তারের রান্নাঘর থেকে উঠে আসা সেই ঘ্রাণমাখা আচার আজ ব্যবসায় রূপ নিয়েছে তার সপ্তম শ্রেণির ছেলে মোবাশ্বির আমিনের হাত ধরে।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোবাশ্বির ছোটবেলা থেকেই মায়ের রান্নায় মুগ্ধ। হঠাৎ একদিন বলেই ফেলে, “মা, তোমার আচার যদি বিক্রি করতাম, কেমন হতো?” প্রথমে পরিবারে কৌতূহল থাকলেও পরে সকলে পাশে দাঁড়ায় মোবাশ্বিরের এই স্বপ্নে।

এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তার হাত বাড়ায় উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই (সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ)। তারা মোবাশ্বিরকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয় এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্সসহ ব্যবসার আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান করে। এরই মাঝে গড়ে ওঠে ‘সেই ফুড’ নামের প্রতিষ্ঠান, যার ব্যান্ড নাম—‘আচারে পাকা’।

 

শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় মোবাশ্বিরের বাড়িতে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ‘আচারে পাকা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এসডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক। তিনি বলেন,
“মোবাশ্বির প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখতে বয়স লাগে না। তার মতো সাহসী শিশুরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের বার্তা বয়ে আনবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—এসডিআই ধামরাই জোনের জোনাল ম্যানেজার অভিজিৎ কুমার দেবনাথ, মানিকগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেন, সদর শাখার ব্যবস্থাপক নয়ন ঘোষ এবং বান্দুটিয়া সেতুবন্ধন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

উদ্বোধনী দিনে অতিথিরা আচার কিনে নেন ও অর্ডার দেন। এসডিআই প্রধান নিজেও ৫০ পিস গরুর মাংস ও ৫০ পিস রসুনের আচারের অর্ডার করেন।

বর্তমানে ‘আচারে পাকা’র দুটি পণ্য বাজারে রয়েছে—গরুর মাংসের আচার ও রসুনের আচার। উদ্যোক্তাদের দাবি, রসুন উচ্চ রক্তচাপ এবং গরুর মাংস নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য উপকারী।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে মোবাশ্বির বলেন,
“মায়ের আচার রান্নার সময় যে ঘ্রাণে বাড়ি ভরে যেত, সেটাকেই আমি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”

মা সুমাইয়া আক্তার বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে বলত আচার বিক্রি করতে। আজ ওর হাত ধরেই সেটা বাস্তব হয়েছে। আমি অর্গানিকভাবে আচার তৈরি করি, আর ও দেখাশোনা করে ব্যবসার দিক।”

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আচারে পাকা’র প্রচারণা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সুপারশপগুলোতে সরবরাহের প্রস্তুতিও চলছে।

শুধু একটি পণ্যের গল্প নয়—‘আচারে পাকা’ এখন এক মা-ছেলের স্বপ্ন, সাহস আর পরিবারিক ঐক্যের প্রতীক।