ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
“দুষ্টচক্র প্রকল্পটিকে স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছে” — অভিযোগ নাগরিক সংগঠনের

কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু একনেক অনুমোদিত নকশায় নির্মাণের দাবি

🗓 | বার্তা মেইল
  • প্রকাশিত: ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪৬ বার পঠিত

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু একনেকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন নাগরিক সংগঠন ‘সদাজাগ্রত ময়মনসিংহ’-এর নেতৃবৃন্দ।

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু একনেকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নাগরিক সংগঠন ‘সদাজাগ্রত ময়মনসিংহ’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্পের সংযোগ সড়ক একনেকে অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে করে বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে, যার ফলে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, কৃষিজমি, খাল ও জলাশয় হুমকিতে পড়ছে। বক্তারা বলেন, এর ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সদাজাগ্রত ময়মনসিংহের প্রধান সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, “মূল নকশা পরিবর্তন করে নগরীর শম্ভুগঞ্জ চায়না মোড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ বাঁকা ইংরেজি ‘U’ আকৃতির একটি সড়কের নির্মাণ চলছে, যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে যুক্ত হয়েছে পুরোনো চায়না সেতুর সংযোগ সড়কের সঙ্গে। এতে করে পুরো ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের এলাকাগুলো যানজটে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “এই নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য একটি খাল, সাতটি জলাশয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, ৬৫টি কবরস্থান, দোকান ও কারখানা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এতে করে প্রায় ৩২ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ এবং ৩০ ফুট উঁচু প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে আরও দুটি সেতু নির্মাণ সম্ভব।”

আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, “এর পেছনে রয়েছে কিছু আবাসন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি দুষ্টচক্রের কারসাজি। তারা প্রকল্পটিকে স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে একনেক অনুমোদিত মূল নকশা এবং বর্তমান বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাছরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব, তেঁতুলতলা মাঠরক্ষা আন্দোলনের নেত্রী সৈয়দা রত্না, বাপার যুগ্ম সম্পাদক হালিম দাদ খান এবং সদাজাগ্রত ময়মনসিংহের সমন্বয়ক মজিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের আওতায় কেওয়াটখালী এলাকায় একযোগে সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত নকশায় রেলপথের কোনো সংস্থান রাখা হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

“দুষ্টচক্র প্রকল্পটিকে স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছে” — অভিযোগ নাগরিক সংগঠনের

কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু একনেক অনুমোদিত নকশায় নির্মাণের দাবি

প্রকাশিত: ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল সেতু একনেকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নাগরিক সংগঠন ‘সদাজাগ্রত ময়মনসিংহ’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্পের সংযোগ সড়ক একনেকে অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে করে বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে, যার ফলে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, কৃষিজমি, খাল ও জলাশয় হুমকিতে পড়ছে। বক্তারা বলেন, এর ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সদাজাগ্রত ময়মনসিংহের প্রধান সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, “মূল নকশা পরিবর্তন করে নগরীর শম্ভুগঞ্জ চায়না মোড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ বাঁকা ইংরেজি ‘U’ আকৃতির একটি সড়কের নির্মাণ চলছে, যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে যুক্ত হয়েছে পুরোনো চায়না সেতুর সংযোগ সড়কের সঙ্গে। এতে করে পুরো ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের এলাকাগুলো যানজটে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “এই নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য একটি খাল, সাতটি জলাশয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, ৬৫টি কবরস্থান, দোকান ও কারখানা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এতে করে প্রায় ৩২ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ এবং ৩০ ফুট উঁচু প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে আরও দুটি সেতু নির্মাণ সম্ভব।”

আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, “এর পেছনে রয়েছে কিছু আবাসন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি দুষ্টচক্রের কারসাজি। তারা প্রকল্পটিকে স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে একনেক অনুমোদিত মূল নকশা এবং বর্তমান বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাছরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব, তেঁতুলতলা মাঠরক্ষা আন্দোলনের নেত্রী সৈয়দা রত্না, বাপার যুগ্ম সম্পাদক হালিম দাদ খান এবং সদাজাগ্রত ময়মনসিংহের সমন্বয়ক মজিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের আওতায় কেওয়াটখালী এলাকায় একযোগে সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত নকশায় রেলপথের কোনো সংস্থান রাখা হয়নি।