ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবদম্পতিকে ভয় দেখিয়ে মানিকগঞ্জে কথিত সাংবাদিক ও যুবদল নেতার চাঁদাবাজি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: ০১:৪৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • / ১৬৭ বার পঠিত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নবদম্পতির কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে দুই কথিত সাংবাদিক ও এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বাল্যবিয়ের অভিযোগে ভয় দেখিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় নবদম্পতির পরিবারের কাছে। পুরো টাকা দিতে না পারায় হামলার শিকার হয় পরিবারটি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পায়নি তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) দুপুরে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায়।

অভিযুক্তরা হলেন:দেলোয়ার হোসেন (৩৫) – মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা; নিজেকে “গ্রামগঞ্জের কথা” পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার দাবি করেন।

সুমন আহমেদ বাবু (৩২) – সদর উপজেলার বালিরটেক এলাকার বাসিন্দা; নিজেকে “দেশ প্রতিদিন” পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন।

জিয়া (৩৮) – সিংগাইর উপজেলার ছোট কালিয়াকৈর এলাকার বাসিন্দা ও বলধারা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক।

এছাড়া যুবদল নেতা আমিনুর রহমান (৩২), মো. আফজাল (৩৪) ও মো. আলী (৩৪) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়,তুষার আহমেদ ও আমেনা আক্তার ছোঁয়া প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে দেড় মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কথিত সাংবাদিকরা বাল্যবিয়ের অভিযোগ তুলে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সংবাদ না করার শর্তে।

পরবর্তীতে স্থানীয় যুবদল নেতা জিয়ার মধ্যস্থতায় ৫০ হাজার টাকায় মৌখিক মীমাংসা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা দিতে সক্ষম হয় এবং বাকি ৪০ হাজার টাকা পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার শর্তে জিয়া নিজে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু সন্ধ্যায় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে জিয়া ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে হামলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারটি। ওই রাতেই তুষারের মা স্বপ্না বেগম (৩২) সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা জিয়া বলেন, “ঘটনার দিন সাংবাদিক ও ওই পরিবারের লোকজন আমাকে ডাকে। পরে শুনি ছেলে-মেয়ের বয়স হয়নি। সাংবাদিকরা নিউজ করতে আসে। ছেলের মা আমাকে অনুরোধ করলে আমি সাংবাদিকদের বলি নিউজ না করতে। তাদের সঙ্গে লেনদেনের কথা হয়, আমি ও মহিলাকে জানাই। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এত টাকা নেই, আপনি ব্যবস্থা করে দিন, আমার ইজ্জত বাঁচান।’ পরে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন, বাকি টাকা আমাকে দিতে বলেন। আমি ১০ হাজার টাকা সাংবাদিকদের দিয়ে বিদায় করি। পরে নিজের টাকা চাইতে গেলে তারা অস্বীকৃতি জানায়।”

তবে এই ঘটনায় তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কাউকে মারধর করিনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে কথিত সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা কোনো টাকা নেইনি। সেদিন অনেক লোকজন ছিল। যদি কেউ ওই পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে, তা আমার জানা নেই।”

তার নামে থানায় অভিযোগ হয়েছে জানালে তিনি বলেন, “আমি স্থানীয়দের ডেকে টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করব।”

অপর কথিত সাংবাদিক সুমন আহমেদ বাবু বলেন, “শুনেছি আমরা চলে আসার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।”

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজন চাঁন মিয়া (৫০) বলেন, “ওই সাংবাদিক আমাদের কাছে সোমবার (১৬ জুন) রাতে এসে ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বলেছি, বাকি ৪০ হাজার টাকার জন্য জিয়া আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাকে নিয়ে এসে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে বলি। সবাইকে হাজির করে মীমাংসা করতে চাই। কিন্তু তারা কেউই আসেনি, টাকাও ফেরত দেয়নি।”

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছে। অভিযোগকারী স্বপ্না বেগম বলেন, “আমার কাছ থেকে টাকা নিল, নিউজও করল, আবার ভয়ও দেখাল। দেশে কি কোনো আইন নেই? সাংবাদিক পরিচয়ে যা খুশি তাই করবে! আমরা শখ করে বাল্যবিয়ে দিইনি। আমার ছেলে জেলে ছিল, কত কষ্ট করেছি। আমি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফজলুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সিংগাইর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “অভিযোগ পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :

নবদম্পতিকে ভয় দেখিয়ে মানিকগঞ্জে কথিত সাংবাদিক ও যুবদল নেতার চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: ০১:৪৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নবদম্পতির কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে দুই কথিত সাংবাদিক ও এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বাল্যবিয়ের অভিযোগে ভয় দেখিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় নবদম্পতির পরিবারের কাছে। পুরো টাকা দিতে না পারায় হামলার শিকার হয় পরিবারটি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পায়নি তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) দুপুরে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায়।

অভিযুক্তরা হলেন:দেলোয়ার হোসেন (৩৫) – মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা; নিজেকে “গ্রামগঞ্জের কথা” পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার দাবি করেন।

সুমন আহমেদ বাবু (৩২) – সদর উপজেলার বালিরটেক এলাকার বাসিন্দা; নিজেকে “দেশ প্রতিদিন” পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন।

জিয়া (৩৮) – সিংগাইর উপজেলার ছোট কালিয়াকৈর এলাকার বাসিন্দা ও বলধারা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক।

এছাড়া যুবদল নেতা আমিনুর রহমান (৩২), মো. আফজাল (৩৪) ও মো. আলী (৩৪) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়,তুষার আহমেদ ও আমেনা আক্তার ছোঁয়া প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে দেড় মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কথিত সাংবাদিকরা বাল্যবিয়ের অভিযোগ তুলে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সংবাদ না করার শর্তে।

পরবর্তীতে স্থানীয় যুবদল নেতা জিয়ার মধ্যস্থতায় ৫০ হাজার টাকায় মৌখিক মীমাংসা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা দিতে সক্ষম হয় এবং বাকি ৪০ হাজার টাকা পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার শর্তে জিয়া নিজে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু সন্ধ্যায় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে জিয়া ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে হামলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারটি। ওই রাতেই তুষারের মা স্বপ্না বেগম (৩২) সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা জিয়া বলেন, “ঘটনার দিন সাংবাদিক ও ওই পরিবারের লোকজন আমাকে ডাকে। পরে শুনি ছেলে-মেয়ের বয়স হয়নি। সাংবাদিকরা নিউজ করতে আসে। ছেলের মা আমাকে অনুরোধ করলে আমি সাংবাদিকদের বলি নিউজ না করতে। তাদের সঙ্গে লেনদেনের কথা হয়, আমি ও মহিলাকে জানাই। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এত টাকা নেই, আপনি ব্যবস্থা করে দিন, আমার ইজ্জত বাঁচান।’ পরে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন, বাকি টাকা আমাকে দিতে বলেন। আমি ১০ হাজার টাকা সাংবাদিকদের দিয়ে বিদায় করি। পরে নিজের টাকা চাইতে গেলে তারা অস্বীকৃতি জানায়।”

তবে এই ঘটনায় তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কাউকে মারধর করিনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে কথিত সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা কোনো টাকা নেইনি। সেদিন অনেক লোকজন ছিল। যদি কেউ ওই পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে, তা আমার জানা নেই।”

তার নামে থানায় অভিযোগ হয়েছে জানালে তিনি বলেন, “আমি স্থানীয়দের ডেকে টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করব।”

অপর কথিত সাংবাদিক সুমন আহমেদ বাবু বলেন, “শুনেছি আমরা চলে আসার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।”

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজন চাঁন মিয়া (৫০) বলেন, “ওই সাংবাদিক আমাদের কাছে সোমবার (১৬ জুন) রাতে এসে ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বলেছি, বাকি ৪০ হাজার টাকার জন্য জিয়া আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাকে নিয়ে এসে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে বলি। সবাইকে হাজির করে মীমাংসা করতে চাই। কিন্তু তারা কেউই আসেনি, টাকাও ফেরত দেয়নি।”

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছে। অভিযোগকারী স্বপ্না বেগম বলেন, “আমার কাছ থেকে টাকা নিল, নিউজও করল, আবার ভয়ও দেখাল। দেশে কি কোনো আইন নেই? সাংবাদিক পরিচয়ে যা খুশি তাই করবে! আমরা শখ করে বাল্যবিয়ে দিইনি। আমার ছেলে জেলে ছিল, কত কষ্ট করেছি। আমি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফজলুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সিংগাইর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “অভিযোগ পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”