ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে যুবদল নেতাকে গ্রেফতার, পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: ০৮:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / ৯৮ বার পঠিত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নালী ইউনিয়নের দিয়াইল গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মিন্টু দিয়াইল গ্রামের তমেজ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবির ওসি আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, “২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মানিকগঞ্জে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এ মিন্টু মিয়া হামলায় জড়িত ছিলেন। একটি ভিডিও ফুটেজে তাকে চিহ্নিত করা হয়। সেই ভিডিও যাচাই-বাছাই করেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তবে মিন্টুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পুলিশের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বলছেন, মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফারুক মিয়া বলেন, “মিন্টু আমাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার স্বাক্ষরিত কমিটিতেই তার নাম রয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী বানিয়ে গ্রেফতার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন বলেন, “মিন্টু আমাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী। রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। হয়তো ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্বের জেরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, “যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেটি ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা। অথচ সেটিকে ৪ আগস্ট বলে চালানো হচ্ছে। আমি নিজে ওইদিনরে আন্দোলনে ছিলাম, সেখানে মিন্টুর সম্পৃক্ততা ছিল না। তাকে মিথ্যা ভিডিও ও মনগড়া অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। আমার কর্মীকে আমার বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং মিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এখনো কোনো মন্তব্য দেননি।

এদিকে, মিন্টুর গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

মানিকগঞ্জে যুবদল নেতাকে গ্রেফতার, পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশিত: ০৮:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নালী ইউনিয়নের দিয়াইল গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মিন্টু দিয়াইল গ্রামের তমেজ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবির ওসি আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, “২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মানিকগঞ্জে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এ মিন্টু মিয়া হামলায় জড়িত ছিলেন। একটি ভিডিও ফুটেজে তাকে চিহ্নিত করা হয়। সেই ভিডিও যাচাই-বাছাই করেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তবে মিন্টুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পুলিশের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বলছেন, মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফারুক মিয়া বলেন, “মিন্টু আমাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার স্বাক্ষরিত কমিটিতেই তার নাম রয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী বানিয়ে গ্রেফতার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন বলেন, “মিন্টু আমাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী। রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। হয়তো ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্বের জেরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, “যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেটি ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা। অথচ সেটিকে ৪ আগস্ট বলে চালানো হচ্ছে। আমি নিজে ওইদিনরে আন্দোলনে ছিলাম, সেখানে মিন্টুর সম্পৃক্ততা ছিল না। তাকে মিথ্যা ভিডিও ও মনগড়া অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। আমার কর্মীকে আমার বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং মিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এখনো কোনো মন্তব্য দেননি।

এদিকে, মিন্টুর গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন দৃষ্টান্ত।